Saturday , December 5 2020

মাল্টায় স্বাবলম্বী পিরোজপুরের ৬শ’ চাষি

পিরোজপুরে দিন দিন বাড়ছে মাল্টা চাষ। সফল চাষিদের দেখে মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ৫-৬শ’ চাষি। পিরোজপুরের মাল্টা এরমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে সারাদেশে।

জেলার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি এ ফলের দেশীয় চাহিদা মেটাতে অতীতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এ জেলায় উৎপাদিত মাল্টা এখন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করছে এবং এ জেলার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে কৃষি জমির পরিমাণ।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্যসূত্রে, পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, মঠবাড়িয়া, কাউখালীসহ জেলায় এ বছর ৯৫০টি মাল্টা বাগান রয়েছে। আর চাষাবাদ জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৫ হেক্টরেরও বেশি।

পিরোজপুরে সফল চাষিদের দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বিভিন্ন উপজেলার অনেক কৃষক। দোকানে বিদেশি ফলের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ ফলটিও বিক্রি হচ্ছে। শহরের খাদ্য সচেতন মানুষের কাছে এ মৌসুমি ফলের বেশ কদর। তাজা, বিষমুক্ত, সুমিষ্ট লেবু জাতীয় ফলের কদর বিদেশ থেকে আনা কমলা, মাল্টা, ডালিমের সঙ্গে বেশ পাল্লা দিয়েই বেড়ে চলছে। ক্রেতা-দোকানির কাছে আমদানি করা হলদে রঙের চেয়ে এ জেলার সবুজ মাল্টার কদর বেশি।

পিরোজপুর সদরের মাল্টা চাষি আবু জালাল ও সমলেশ জানান, বিভিন্ন কৃষিপণ্যের থেকে মাল্টা অল্প খরচ ও কম খাটুনিতে বেশি লাভ পাওয়া যাচ্ছে। মাল্টা বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পাইকারি দরে ৬০-৮০ টাকায় কিনে বাজারে তা ১২০ টাকায় কেজিতে বিক্রি করছে। আগামীতে আমরা আরো বেশি জায়গায় মাল্টার চারা রোপণ করবো।

দর উপজেলার কৃষি অফিসার শিপন চন্দ্র ঘোষ ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, ছয় বছর আগেও এ জেলায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলের মধ্যে পেয়ারা ও আমড়ার নাম ছিল শীর্ষে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকায় এ ফল দুটির ব্যাপক চাহিদা ছিলো। মাত্র চার বছরে গুটিকয়েক ফলচাষি কৃষি বিভাগের সহায়তা নিয়ে এ জেলায় সম্ভাবনাময় মাল্টার পরিচিতি পান। এখানে দোআঁশ মাটি মাল্টা চাষে উপযোগী, স্থানীয় কৃষকদের তা জানা ছিল না। প্রথমে শখের বশে কেউ কেউ মাল্টা বাগান করতেন। বর্তমানে এ জেলায় প্রায় ৯৫০টি মাল্টা বাগান রয়েছে। আর সফলতার মুখ দেখছেন অনেকেই।

তিনি আরো জানান, মাল্টা চাষে সার্বিক উন্নয়নে জেলা-উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কৃষকদের চারা, সার ও পরামর্শ দেয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর আরো মাল্টা বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে মাল্টা চাষে কৃষকদের সব সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন ইউএনও বশির আহমেদ।