Saturday , December 5 2020

নববধূকে তালাক দিয়ে সেই অ’নশনরত তরুণীকে বিয়ে করল যুবক

ঢাকার ধামরাইয়ের ব্যবসায়ী মো. জুলহাস উদ্দিন বিয়ে করেছেন মাত্র পাঁচদিন আগে। এরমধ্যেই অ’নশনরত প্রে’মিকাকে বিয়ে করতে তার স্ত্রী’কে তালাক দিয়েছেন জুলহাস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজে’লার বালিয়া ইউনিয়নের সৈয়দের মোড় এলাকায় এ ঘ’টনা ঘটেছে।

এলাকাবাসী ও ভু’ক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র পাঁচদিন আগে ১৫ নভেম্বর বালিয়া সৈয়দের মোড় এলাকার মো. আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে ব্যবসায়ী মো. জুলহাস উদ্দিন কাবিন রেজিস্ট্রি করে একই উপজে’লার দেওনাই গ্রামের মো. আবুল হোসেনের মে’য়ে মোসাম্মৎ আকলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন।

এ খবর পেয়ে তার পুরোনো প্রে’মিকা চর টৌহাট গ্রামের বাসিন্দা মো. চাঁন মিয়ার মে’য়ে ও ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সীমা আক্তার ১৫ নভেম্বর বিকেলে ওই বাড়িতে আসেন।

এরপর তিনি বিয়ের দাবিতে অ’নশন শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ির লোকজন বিয়ের দাবিতে অ’নশনরত ওই কলেজছাত্রীকে শা’রীরিক নি’র্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তারা ওই কলেজছাত্রীকে একা বাড়িতে রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার পু’লিশ ও সাংবাদিক ঘ’টনাস্থলে এলে ওই পরিবারের লোকজন অ’নশনরত কলেজছাত্রীর স’ঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. সজল মিয়ার মাধ্যমে। ওই কলেজছাত্রীর দেয়া শর্তানুযায়ী ব্যবসায়ী জুলহাস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বৈধ স্ত্রী’কে তালাক প্রদান করে তাকে কাবিন রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন। ঘ’টনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অ’নশনরত কলেজছাত্রী সীমা আক্তার জানান, প্রেমের জয় হয়েছে। সেই স’ঙ্গে আমিও বিজয়ী হলাম। এখন আমার আর কোনো অভিযোগ নেই আমার প্রে’মিক স্বা’মীর ও’পর। সে আমার শর্ত মেনে তার স্ত্রী’কে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে।

প্রে’মিক জুলহাস জানান, আমার কোনো উপায় ছিল না। তাই আমার রেজিস্ট্রি করা স্ত্রী’কে তালাক দিয়ে প্রে’মিকাকে বিয়ে করেছি। আমি পরিবারের চা’পে পড়ে ওই মে’য়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছিলাম।

তালাকপ্রা’প্ত নববধূ আকলিমা আক্তার জানান, আমার কপাল পু’ড়ে গেছে আমার স্বা’মীর নির্দয়তার কারণে। এরপরও আমি যুগ যুগ ধরে তারই পথচেয়ে অপেক্ষা করব। একজন সতীনা’রী কেবল একজনকেই স্বা’মী হিসেবে মনে জায়গা দিতে পারেন।

ওই নববধূর অভিভাবক মো. আবদুল খালেক জানান, ছেলেটি ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের স’ঙ্গে যা করল তা ভাষাহীন। একটি মে’য়ের স’ঙ্গে এমন বিশ্বাসঘা’তকতা কীভাবে করতে পারে। এটা খুবই দুঃখজনক। আল্লাহ ঠিকই ওদের বিচার করবেন।